গড়ানে-মটর

ছিল একজন লোক। তার ছয় ছেলে, একটি মেয়ে।

গেল তারা জমি চষতে, বোনকে বললে যেন খাবার নিয়ে যায়। বোন বললে: ‘কিন্তু কোথায় তোমরা চষবে? আমি তো জানি না।’

ওরা বললে: ‘যেখানে চষব, বাড়ি থেকে সে জায়গাটা পর্যন্ত ফালের দাগ দিয়ে যাব। তুই সেই দাগ ধরে চলে যাবি।’

এই বলে চলে গেল তারা।

এখন সেই মাঠের কাছে বনে এক নাগ থাকত ৷

দাগটা সে বুজিয়ে দিতে শুরু করল। আর নিজে তার বদলে আরেকটা দাগ টেনে নিয়ে গেল তার নিজের পুরী পর্যন্ত।

মেয়েটি এদিকে ভাইদের জন্যে খাবার নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল সেই দাগ ধরে।

যেতে যেতে যেতে গিয়ে পৌঁছল একেবারে নাগের আঙিনায়। নাগও তাকে ধরে রাখল সেখানে।

সন্ধেয় বাড়ি ফিরল ছেলেরা, মাকে বলে: ‘সারা দিন হাল দিলাম, তুমি আমাদের খাবারও পাঠালে না।’

‘পাঠালাম না মানে? আলেঙ্কা যে নিয়ে গেল! আমি ভাবছিলাম তোমাদের সঙ্গে ফিরবে। পথ হারাল নাকি?’

ভাইরা বললে: ‘খুঁজতে যেতে হয় ৷’

ছয় ভাই সেই নতুন দাগ ধরে পৌঁছল নাগের আঙিনায়। এসে দেখে: বোনটি সেখানে।

‘দাদারা আমার, নাগ যে আসবে, কোথায় তোমাদের লুকিয়ে রাখি ৷ তোমাদের যে খেয়ে ফেলবে!’

নাগ ওদিকে উড়ে আসছে।

ফোঁস ফোঁস করছে, ‘মানুষের গন্ধ পাঁও! তা কী হে ছোকরারা, লড়বে নাকি মিটমাট করে নেবে?’

ওরা চেঁচাল, ‘না! লড়ব!’

‘চলো তাহলে লোহার ঝাড়াইতলায়।’

গেল তারা লোহার ঝাড়াইতলায় লড়তে।

বেশিক্ষণ লড়াই চলল না: নাগ ঘা মারতেই তারা লুটিয়ে পড়ল লোহার ঝাড়াইতলায়। আধমরা অবস্থায় তাদের তুলে নিয়ে নাগ ফেলে দিলে গভীর অন্ধকূপে।

মা-বাপে ওদিকে ছেলেদের পথ চেয়ে আছে―নেই তো নেই-ই।

একদিন লোকটার বৌ গেল নদীতে কাপড়চোপড় কাচতে, দেখে রাস্তায় একটা মটরদানা গড়াচ্ছে। মটরদানাটা তুলে নিয়ে সে খেয়ে ফেলল।

তারপর তো ছেলে হল তার। নাম রাখল গড়ানে-মটর।

ছেলে বেড়ে ওঠে, অল্প বয়সেই হয়ে উঠল প্রকাণ্ড। একদিন বাপ-ছেলেয় মিলে কুয়ো খুঁড়ছিল—খুঁড়তে খুঁড়তে গিয়ে ঠেকল এক মস্তো পাথরে।

বাপ ছুটে গেল লোক ডাকতে, পাথরটা যাতে তুলে ফেলতে সাহায্য করে।

বাপ যেতে না যেতেই গড়ানে-মটর নিজেই পাথরটা তুলে ফেলে দিলে। এল লোকজনেরা, ব্যাপার দেখে একেবারে থ’। গায়ে ওর এত জোর ভয় পেয়ে গেল, চেয়েছিল তাকে খুন করতে। ছেলে ওদিকে সে পাথর ওপরে ছুঁড়ে লুফে নেয় ৷

এমন কাণ্ড দেখে লোকেরা পালিয়ে গেল দিগ্বিদিকে। বাপে-ছেলেতে আরো খোঁড়ে―খুঁড়তে খুঁড়তে গিয়ে ঠেকল মস্তো এক লোহার চাঙড়ে।

গড়ানে-মটর সেটা টেনে তুলে লুকিয়ে রাখল।

একদিন গড়ানে-মটর বাপকে শুধায়, মাকে শুধায়: ‘আমার যেন ভাইবোন ছিল? তাই না?’

ওরা বললে, ‘হারে বাছা, ছিল তোর বোন আর ছয় ভাই। তবে বাছা এই হয়েছে, সেই হয়েছে।’

সব কথা তাকে বলল ৷

ছেলে বলে, ‘তাহলে আমি ওদের খুঁজতে যাব।’

বাপ-মায়ে কত বোঝায়: ‘যাস নে বাছা: ছয়জনে গেল, ফিরল না, তুই তো একা, নির্ঘাৎ তুই মারা পড়বি!’

‘না যাব! ওরা যে আমাদেরই রক্তমাংস, উদ্ধার করব না, সে কি হয়!’

যে লোহাটা খুঁড়ে তুলেছিল, সেটা নিয়ে সে গেল কামারের কাছে।

বললে, ‘আমায় একটা তরোয়াল বানিয়ে দাও বেশ বড়োসড়ো।’

এমন তরোয়াল কামার বানাল যে কামারশাল থেকে সেটা বার করে আনতে পারল বহু কষ্টে। গড়ানে-মটর তরোয়ালটা নিয়ে বোঁ করে হুঁড়ে দিল আকাশে। বাপকে বললে: ‘ঘুমতে যাচ্ছি, বারো দিন পরে, তরোয়াল যখন মাটিতে এসে পড়তে যাবে, আমায় জাগিয়ে দিও।’

এই বলে সে শুল।

তেরো দিনের দিন শোঁ শোঁ শব্দ করে তরোয়াল এসে পড়ছে। ছেলেকে জাগিয়ে দিল বাবা। ছেলে লাফিয়ে উঠে মুঠো বাড়িয়ে ধরল। তরোয়াল যেই সেই মুঠোতে আছড়ে পড়া,

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice